টিয়ার নগর জীবনআজ ৫ই জুন – বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহা সমারোহে। প্রথম যখন এই তারিখটার সাথে পরিচয় ঘটে তখন জোর কদমে পরীক্ষা প্রস্তুতি।তাই দিনটির গভিরতা না মেপেই মুখস্ত করেছি। পরে যত দিন পার হয়েছে বুঝেছি ৫ই জুন শুধু মাত্র একটি দিন নয় এটি একটি ভাবনা, প্রয়াস আগামী প্রজন্মকে এক বাসযোগ্য ভূমি দিয়ে যাবার। লড়াই নিজেকে বাঁচানোর। লড়াই প্রকৃতিকে প্রাত্যহিক ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করার। আসলে লড়াইটা আমাদের নিজের সাথে নিজেদেরই। বিলাস বহুল জীবন আর স্বচ্ছন্দের বস্তুটি কাছে পেতে মরিয়া আমরা। সেই লোভী মনটাকে সংযত করতে ঠিক যেমন স্বাধীনতার চেতনাকে জাগাতে হয়েছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা। ঠিক তেমনি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে পরিবেশ দূষণের প্রভাবে কলুষিত পৃথিবীকে বাঁচাতে এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা। রাষ্ট্রপুঞ্জ, ১৯৭২ সাল থেকে মানব পরিবেশ সম্পর্কিত সন্মেলনের মাধ্যমে শুরু করে এই লড়াই। যাতে বর্ণ, ধর্ম, জাত পাত ভুলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসে বিশ্বের মানুষ। ১৯৭৪ সালের ৫ই জুন থেকে প্রতিটি দেশের একটি শহর আয়োজকের ভূমিকায় একটি নির্দিষ্ট থিমের উপর ভিত্তি করে পালন করে আসছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। উদ্দেশ্য মানুষকে একত্রিত করে পরিবেশ ভাবনা ও সচেতনতাকে জাগিয়ে তোলা। পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাওয়া পরিবেশের সমস্যাগুলির সমাধান বের করা। ১৯৭৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেনে ‘একই পৃথিবী’ থিমের ওপর প্রথম এই দিনটি পালিত হওয়া শুরু হয়। ২০১১ সালে ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লীতে আয়োজিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস, থিম – ‘বন ও বন সম্পদের সংরক্ষণ’। এ বছর (২০১৬) দক্ষিন আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলা শহরে ‘বন্যপ্রাণী নিয়ে চলা বিশ্বব্যাপী অবৈধ ব্যাবসা অবিলম্বে বন্ধ করা’ থিমের ওপর এই দিনটির পালন হচ্ছে। পাশাপাশি সারা বিশ্বের মানুষ এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালন করতে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু শুধু একদিন এই দিন পালন করলে হবেনা সারা বছর ধরে চালিয়ে যেতে হবে এই প্রচার, স্কুল কলেজ থেকে অফিস বা পাড়ার ঠেক সর্বত্র। পরিবেশ দূষণের প্রভাবে বদলে যাওয়া পরিবেশ ও সেই পরিবেশে নিজেদের স্বভাবের পরিবর্তনে বাধ্য হওয়া জীবগুলি সম্পর্কে প্রয়োজন গভীর গবেষণার। ব্যাক্তিগত ভাবে পরিবেশ পরিবর্তনের কিছু টুকরো তথ্য পরিবেষণের চেষ্টা করলাম। আসুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সার্থক করে তুলি এই সব জীবদের রক্ষার মধ্যে দিয়ে।

বাসা তৈরির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে পায়রা নিজের বাসায়সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘বাংলাদেশ’ কবিতার গ্রাম বাংলার সাথে আজকের বাংলার বিস্তর ফারাক। কথাগুলো আজ বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। গ্রাম বাংলায় আজ সচরাচর চাতকের দেখা মেলে না, বাবুইও যেন ভুলে গেছে বাসা বাঁধতে। ছোটো বড় পুকুর গুলো ভরাট হয়ে সেখানে গজিয়ে উঠছে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ী, সুউচ্চ ইমারত কিংবা শপিংমল, তাইতো পাড়ার ছেলেরা আর ‘জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটেনা’। আজ আর কোন ‘গফুর’ই তার প্রিয় ‘মহেশের’ মৃত্যুতে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা অনুভব করেনা। আমাদের মধ্যে থেকে মিলিয়ে যাচ্ছে আবেগ, আর আমরা প্রত্যেকেই পরিনত হচ্ছি এক একটি যন্ত্রমানবে। যন্ত্রের প্রতি আমাদের এই ভালবাসা আমাদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে দূরে, যন্ত্রদানবদের সাম্রাজ্যে। যেখানে ‘হীরক রাজার’ মতো কোন দুষ্টু রাজার পোষা বিজ্ঞানী তার ‘মগজ ধোলাইয়ের’ যন্ত্রে আমাদের মস্তিস্ক থেকে মুছে ফেলছে প্রেম, প্রীতি আর ভালবাসার আবেগকে। প্রকৃতিকে আমরা মা বলে সম্বোধিত করি আর তাই মায়ের কাছ থেকে চেয়েনি যখন যা প্রয়োজন। সে চাওয়ার অন্ত নেই, আর সেও হাসি মুখে সব আবদার মেনে উজাড় করে দেয় নিজের সবটুকু। এই পাওয়ার নেশায় আমরা চাই আরও বেশী বেশী, যা লোভেরই নামান্তর। মানুষের চাহিদা পূরণের সামর্থ্য প্রকৃতির থাকলেও, কারো লোভ মেটানোর ক্ষমতা বোধকরি স্বয়ং বিধাতা পুরুষেরও নেই। তাই ধরিত্রী আজ নিঃস্ব। সব শেষ হয়ে আসার আগে আমরা চাইছি অন্য কোথাও অন্য কোনো গ্রহে পালিয়ে যেতে স্বার্থপরের মতো। তাইতো গ্রাম বাংলার রাঙামাটিতে হাঁটার বদলে মঙ্গলের লালমাটিতে পা ফেলার স্বপ্ন দেখছি জেগে-ঘুমিয়ে। কিন্তু সেখানে কি বাবুই বাসা বোনে, না মধ্য রাত্রিতে ভোর হল ভেবে বাড়ীর পাশের কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসে থাকা কোকিলটা উচ্চস্বরে ডেকে ওঠে ? হয়তো এদের কোন বিকল্প জীব আছে আমাদের অভ্যর্থনা করতে! পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন জীবজন্তুর মধ্যে বেশ কিছু স্বভাবগত ও আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর যারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না তারা হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ থেকে। উদ্ভিদ থেকে প্রাণী সবাই সমান ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই ধ্বংসাত্মক পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাবে। অন্যান্য জীবদের থেকে পাখি আমাদের অত্যন্ত কাছের। অনেক চেনা অচেনা পাখি আমাদের নিত্য সঙ্গী। ভোর বেলা মুরগীর ঘুম ভাঙ্গানো ডাক থেকে শুরু করে গভীর রাতের অন্ধকারকে চিরে ফেলা কোন নিশাচর পাখির অ্যার্লাম কল আমাদের নিশি-দিন যাপনের সাথী। তাই পাখি নিয়ে আলোচিত হল এখানে। যদিও পরিবেশের অন্যান্য জীবগুলিও সমান ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাদের মধ্যেও অনেক পরিবর্তন বিভিন্ন গবেষণায় ধরা পড়েছে।

পায়রার সাময়িক বাসস্থান জীবন চলমান তাই সে জানেনা থেমে থাকার মানে, সাথে সাথে পরিবর্তনশীলও বটে। তাইতো এদের অনেকেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে শহুরে জীবনের সাথে কনক্রিটের ঘরে সংসার পেতে। ছোটো ছোটো গ্রাম গুলি আজ দ্রুত রুপান্তরিত হচ্ছে আধুনিক সুবিধা যুক্ত মাল্টিসিটিতে যেন রুপকথার সেই ‘রুপান্তরম রস’ এর প্রভাবে। তাই আজ গ্রামের পুকুরের ধারে তাল-খেজুরের সারি দেখা যায়না, দেখা যায়না শীতের প্রাক্কালে নতুন গুড়ের জন্য নতুন হাঁড়ি লাগানো সারবদ্ধ খেজুর গাছের দলকেও। এই আদিম সংস্কৃতি আজ ঢাকা পরে গেছে আধুনিক মেশিনের ভারে। আধুনিক যন্ত্র সম্বলিত বিশাল বিশাল কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে মৌচাক থেকে ভাঙা খাটি মধুর বিকল্প। রেশম কীট চাষের স্থান আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আধুনিক পলি-ইস্টার বা সুইস্- কটনের রমরমা বাজার। আজ থেকে প্রায় বেশ কিছু বছর আগের কথা, স্কুল থেকে ফিরে জানলার রডটায় হাত রেখে দাঁড়াতেই দেখা মিলত একদল শুকুনের পরিবারের। বাড়ীর উল্টোদিকে পাঁচ-ছটা তাল গাছে বাস ছিল ওদের। সারা দেশ থেকে এক যোগে সব শুকুন উধাও হয়ে গেলো নিমিষের মধ্যে, আমাদের চাহিদা পূরণের তাগিদে। আমার বাড়ীতেও ছোটো থেকে দেখে এসেছি প্রায় ৫০-৬০ টি পায়রার দলকে বাস করতে। কিন্তু ধীরে ধীরে তারাও যেন পরিবর্তন করে নিচ্ছে নিজেদের বাসস্থান আমাদের পরিবর্তনের সাথে সাথে। এখনো তাদের দেখা মেলে তবে আবাসিক হিসাবে নয় বরং অথিতি আবাসিক হিসাবে মাঝে মধ্যে। একসময় আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়ে যাওয়া চড়ুই পাখি আবার ফিরে এসেছে আগের ছন্দে বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গুলির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তবে এরাও বাসস্থানের অভ্যাস বদলেছে, আগে মাটির ঘরের খড়ের চালে বা মাটির ‘কোঠা’ বাড়ীর টিনের চালার ফাঁকে এরা বাসা করে থাকতো। কিন্তু এখন সেসব জায়গায় পরিবর্তে এদের পুরনো পাইপের ফাঁকে, পাকা বাড়ীর ঘুলগুলিতে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে, মিটার বক্সে অথবা টিউব লাইট বা হোল্ডারের গায়ে বাসা করে থাকতে হয়। সেখানেও অবশ্য এদের বাসস্থানের জন্য পাল্লা দিয়ে সংঘর্ষ করতে হয় পায়রার, ঘুঘু এবং শালিকের মতো পাখিদের সাথে। বাবুই পাখির সৌন্দর্য তার আকর্ষণের মূল কারণ নয় তার প্রতি আমাদের আকর্ষণ তার বাসার জন্য। বর্ষার সময় সময় প্রায় দিন ছাদ থেকে দেখতাম বাবুই পাখির দুটি বা তিনটি দল খেজুর গাছের পাতা থেকে সুন্দর ভাবে সরু সুতোর মতো পাতা কেটে উড়ে যাচ্ছে আর সামনের তাল গাছের ডাল গুলোতে বাসা বুনছে। কী সুন্দর তাদের বাসার গঠন কী সুন্দর আর সাবলীল তাদের কারীগরি, যেন এদের কাছে হার মানে যেকোনো কোট-টাই পরা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের দলও। কিন্তু তাদের বাসা এখন খালি, এরাও যেন পালিয়েছে কোথাও। বুলবুলি আর ধান খায়না, সেও অভ্যস্ত হয়েছে বাঁশপাতির মতো পতঙ্গ ধরে খেতে। আকাশের উড়ন্ত কালো চিলের দল আজ নিজেদের মাছ ধরতে পটু করে তুলেছে, খাবারের অসুবিধা কে মেটাতে। মাংসের দোকানে কাছা কাছি তাই আজকাল এদের বেশ ভালো সংখ্যায় দেখা যায়। শহরাঞ্চলে এদের সংখ্যা এখন অন্যান্য পাখিদের থেকে বেশী।

মৌটুসি পাখির গাছের বদলে ঘরের গ্রিলে বাসাবিভিন্ন স্থানে নগরায়ন ও রাস্তা সম্প্রসারণের মতো বড় বড় প্রকল্প গুলি বাস্তবায়িত করার জন্য কেটে ফেলতে হচ্ছে রাস্তার ধারের অগণিত প্রাচীন মহীরুহদের অথবা ভরাট করা হচ্ছে পুরনো জলাশয় এবং পুকুর গুলিকে। একমাত্র সরকারী তকমা প্রাপ্ত রামসার সাইট বা ইম্পরট্যান্ট বার্ডিং জোন গুলি ছাড়া প্রায় সব জলাশয় ভরাট হয়ে তার জায়গায় দ্রুত গজিয়ে উঠছে বড় বড় মাল্টিপ্লেক্স। দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো শক্ত করতে শিল্পানয়নের জোয়ার। যা বর্তমান পরিস্থিতি সাপেক্ষে আবশ্যিক ভাবে প্রয়োজন কিন্তু এখানে দরকার পদ্ধতিগত সংশোধনের। বন্ধ হওয়া কারখানা না খুলে তার পাশে গড়ে উঠছে নতুন সব কারখানা (উদাহরণ হিসাবে বলা যায় দুর্গাপুর শহরের প্রান্তে এবং অন্ডাল ও রানীগঞ্জের মাঝে NH-2 এর ওপর রাস্তার ধারে বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্পঞ্জ আয়রনের কারখানাগুলি, যার অধিকাংশ আজ বন্ধ)। একটি বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ব কোলকাতার জলাভূমি ভরাটের জন্য প্রায় ১০৯ টি প্রজাতির পাখির দেখা মিলছেনা ঐ সব অঞ্চলে, পরিযায়ী পাখিরাও ঐ সব অঞ্চলে আর সময় মত আসছেনা, আসলেও তাদের সংখ্যা আশানুরূপ নয়। এছাড়াও বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জোকা, রাজারহাট জলাভূমির মতো গুরুত্ব পূর্ণ বার্ডিং সাইট। দুর্গাপুর ব্যারেজ, চিত্তরঞ্জনের কার্নেল সিং পার্ক, ডানকুনি ওয়েটল্যান্ড, সাঁতরাগাছি ঝিল, লালবাঁধ, সাহেববাঁধ, নয়াবাঁধ ও বৈদ্যবাটি ক্যানালের মতো পাখিদের নিরাপদ ঠিকানা গুলি আজ নিরাপদ নয়। সেখানও ভয় রয়েছে নগরায়নের প্রভাবের পাশাপাশি গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো ‘পচার’ বা চোরা শিকারির।

চড়ুইয়ের বাসা রক্ষাপূর্ব কোলকাতার মতো একইরকম ঘটনার সাক্ষী দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অম্বুজা জলাভূমিতে, সেখানেও পাখির সংখ্যা কমছে দিন দিন। সাম্প্রতিক ১৮ই মে চালু হওয়া অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমান বন্দর ও বিমান নগরীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগে ১১০ টির বেশি প্রজাতির পাখির দেখা মিলত বছরের বিভিন্ন সময়ে কিন্তু সেখান থেকেও পাখির সংখ্যা কমছে। সাথে সাথে এইসব অঞ্চলে বিভিন্ন স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন ও খাদ্যের অভাবের জন্য এখান থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন গাছ গুলি কেটে ফেলার জন্য অনেক পাখি তাদের প্রাকৃতিক আবাস হারাচ্ছে। এখন আর আগের মতো সন্ধ্যে হলে প্যাঁচার ডাক শোনা যায়না। যদিও খুব প্রত্যন্ত গ্রাম গুলিতে এদের মাঝে মাঝে দেখা যায় তবে সে সব গ্রামও দ্রুত পা বাড়াচ্ছে নগরান্নয়নের পথে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে আমরা সবাই হাঁটছি। উদ্ভিদ কূল থেকে প্রাণী কূল সকলের অস্তিত্ব আজ বিপন্নতার দোর গোড়ায়, বাদ নেই মানুষও। উন্নয়ন সবার কাম্য, কিন্তু সে তার সাথে সাথে মাথায় রাখতে হবে পরিবেশ সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও। বর্তমানে প্রত্যেক প্রকল্প (সরকারি বা বেসরকারি) অনুমোদনের প্রথমেই পরিবেশবিদদের পরামর্শ প্রয়োজন। সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে নেওয়া সে অঞ্চলের পরিবেশের তথ্য। একমাত্র সচেতন নাগরিকের সঠিক সিদ্ধান্তই রক্ষা করতে পারে আমাদের অস্তিত্বকে।

 

অমর নায়ক

অমর নায়ক

অমর পেশায় শিক্ষক, থাকেন অন্ডাল বর্ধমান। শখ বলতে বই পড়া ও দুর্লভ বই সংগ্রহ করা। অমর সেই মুষ্টিমেয় মানুষদের একজন যারা পরিবেশটাকে খুব কাছ থেকে চিনেছেন, ভালোবেসেছেন আর শিল্পায়নের জেরে বা মানুষের লোভে যে জীব বৈচিত্র ক্রমাগর পরিবেশ থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে তার বিরুদ্ধে একা লড়ছেন। ‘ও কলকাতা’র মঞ্চে অমরকে পাওয়া খুব বড় পাওয়া। আমরা চাই তাঁর প্রতিবাদের ভাষা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে, তাঁর লড়াইতে শামিল হতে।
অমর নায়ক