13016769_1234155003278816_254681483_o

Pet মানে অন্যকিছু হলে চলবে না। হতে হবে বাঁদর ছানা।

বায়েনা খানিক এরকম-ই ছিল।

আমার ছোটবেলার ঘটনা। সব বাচ্চাদের মতন আমার এক দিন মনে হল আমার একটা pet  দরকার। যেমন ভাবা সেই রকম কাজ। এই সব, জীবনের গুরুতর জিনিস এক মাত্র বাবারসাথেই আলোচনা করা যায়। গম্ভীর মুখে বাবা কে গিয়ে বললাম ” আমার একটা pet  দরকার”। মা তো শুনেই প্রমাদ গুনল , আবার একটা ঝামেলা জোটাব আমি। বাবা আরও গম্ভীরমুখে বলল ” ঠিক আছে”  , কিন্তু কিনতে যাবার আগে ঠিক করতে হবে আমি কি চাই কিনতে ।

আলোচনা শুরু হল, কি pet  কেনা হবে তাই নিয়ে।

১) কুকুর – কমন pet , আনেকেই কেনে। আমাদের সবার থেকে আলাদা হতে হবে। তাই কুকুর বাদ

২) বেড়াল – আমি একদম পছন্দ করই না , তাই বাদ

৩) খরগোশ – খুব ছোট বেলায় আমার এক জোড়া খরগোশ ছিল, তাই আবার খরগোশ চলবে না। এটাও বাদ

৪) মাছ – শুধু আকুয়ারিউম এ ঘুরে বেড়াবে আমার সাথে খেলা করতে পারবে না। তাই এটাও বাদ

 

সমস্যা গভীর । কি যে কেনা যায় তাই ভেবে পাছিনা । এরকম সময় বাবা বলল , আমি একটা বাঁদর পুষতে পারি. তাতে আমার লাভ । কারণ যথাঃ

১) পাশের বাড়ি র পেয়ারা যে আমি চুরি করই সেইটা আমার পোষা বাঁদর কে শিখিয়ে দিলে আমাকে আর কেউ দোষ দিতে পারবেনা

২) নতুন ধরনের pet , কেউ পোষে বলে আমার জানা নেই।

৩) আমার সাথে খেলা করতে পারবে।

 

যেই ভাবা, সেই কাজ।

এতগুলো দুর্দান্ত কারণ থাকাতে,  আমি আর বাবা রবিবার সকাল বেলা বেরিয়ে পরলাম , বাঁদর ছানা কিনতে । মা কি করবে ভেবে না পেয়ে চুপ করে বসে পড়ল । হাতিবাগানে রবিবার সকালে খুব সুন্দর বাজার বসতো , এই সব পশু পাখি, মাছ গাছের। সারা বাজার ঘুরে পাওয়া গেলনা একটা বাঁদর ছানা। আমার কাঁদো কাঁদো হাল , কোথাও নেই আমার সাধের বাঁদর ছানা। হতাশ হয়ে দাঁড়ীয়ে আছি , এমন সময় বাবা বলল ” তাহলে একটা গাছের চারা কিনে বড়ো করা যাক , তাতে ফুল ফোটানো যাক ” । চারি পাশে প্রচুর সুন্দর সুন্দর ফুল এরগাছ , লোভ হচ্ছিল  অনেকখন ধরে, বাবা কে বলিনি পাছে বাঁদর কেনার সুযোগ হারাই । এবার বাবার প্রস্তাবে এক কোথায় রাজি হয়ে গেলাম । ফুল গাছের চারা কিনে নাচতে নাচতে বাড়ি চলে এলাম ।

বাবা-কে হারিয়েছি কয়েক মাস হল। হাতে সেদিন ফুল গাছের চারা দেখে মা সবচেয়ে খুশি হয়েছিল।

সে বৃক্ষ-রূপি pet জল, আলো আর বাতাস পেয়ে হয়ে উঠেছে যেন আমার আপনজন।

Latest posts by সুবর্ণা ভাদুরি (see all)