জয় মাতা দি

রোজ শোনা যায় এই চিৎকার, কাটরার পথে মাতৃ-দর্শন করতে যাবার সময়।
তবু, যেদিন আমি যাই, একমাত্র সেই দিন আমার কাছে বিশেষ।
মা কে রোজ বলবো ভাবি, তুমি কিকরে এমন করে করো, যাই করো না কেন।
কিকরে তোমার হাতের রান্নার স্বাদ চিরকাল অন্যরকম লাগে, কেন যতই তোমায়ে ডাকি, মনে হয়ে আরেকবার ডাকি।
সত্যি বলছি, দুর্গাপূজার অঞ্জলি দেবার সময় তোমার মুখটাই খুঁজি।
বাবা পিছনে শিব সেজে থাকে, কিন্তু আমি জানি, বাবাও ঠাকুমার জন্যে বেশি ভাবতো।
আমি তো বাবারই ছেলে, তা আমি আমার মা কে নিয়ে কেন ভাববো না বোলো ?

প্রেম আসলে অনেক প্রকার। কিছু প্রেম আশীর্বাদী, কিছু প্রেম আনন্দি, কিছু প্রেম হাস্যময়, কিছু প্রেম লাস্যময়, আর কিছু জান্তব।পার্ক স্ট্রিট দিয়ে হাটার সময় দেখি, রাস্তার ধারে রুগ্ন শিশুগুলো কে কেমন জন্তুর মতো আঁকড়ে ভালবাসে, আদর করে তাদের মা, আর কিছু মা–হারা হাঁ করে তাকিয়ে দ্যাখে।
এই প্রেম সবাই পায়ে না।হয়তো পায়ে, বোঝে না, বুঝি না।
তাহলে কি বুঝি?
বুঝি যে যা কারুর কাছে জান্তব, তা আমাদের কাছে দৈনিক। “ও মা, বেরবো, টাকা দাও”, এটাও যেমন দৈনিক। “ধুর তুমি কিছু জানো না”, এটাও তেমনি দৈনিক।
রাস্তার ধারের নোংরা ছেলেটার আদর খাওয়া, বা হয়ত কোনরকম খাওয়াই, ঠিক দৈনিক নয়। যাই দৈনিক নয়, তার-ই জোর বেশি।
কথায়ে কথায়ে বোধহয়ে অনেক হাবিজাবি বলা হয়ে গেলো। আর বিশেষ বলবো না, শুধু বলি, আজ বিশ্ব মাতৃ দিবসে, মা কে আদর করি, বা না করি, মনটাকে একটু নাহয় বোঝাই, যে এই যে দৈনিক মাতৃ স্নেহ, এটার শুরু এবং শেষ মায়ের থেকেই।
আর, যেকোনো ভাল জিনিষের মতই, মা সবসময় থাকবে না। যতদিন আছেন, ততদিন নাহয়ে তাঁকে প্রণাম তা জানাই?

ঘুম থেকে উঠে মা কে একটা প্রণাম জানালে, মনটা বরং ভাল হবে।
ওই একটা “খুশি থাক, আর নেকামো করিস না”র দাম অনেক।
আপনার আমার মন, মায়ের আশীর্বাদ-এর গভীরতা কখনও মাপতে পারি নি, পারবও না।

হ্যাপি মাদারস ডে।।

পার্থ মুখার্জী

পার্থ মুখার্জী

পেশায় তথ্য-প্রযুক্তি - কিন্তু নেশা ছবি আঁকা। ব্যাগে সব সময় থাকে কাগজ কলম না হলে ফোন ভরসা। যে কোন মিডিয়ামে অভ্যস্ত। ও কলকাতার নবীন লেখক ও শিল্পী।
পার্থ মুখার্জী

Latest posts by পার্থ মুখার্জী (see all)