পড়তে গিয়ে আপনাদের মনে হতে পারে অপ্রাসঙ্গিক, বা ধান ভানতে শিবের গীত তবে এই কথা গুলো একটু ভেবে দেখবেন।

ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বা বাংলাদেশেও একটা রেওয়াজ আছে, নতুন মানুষকে জিজ্ঞেস করার :- আপনার দেশ কোথায় ? ওড়িয়াতে জিজ্ঞেস করে :- ঘরঅ কৌঠি ? (এখানে ঘরঅ =দেশ)। তেলুগুতে – মি উরু অ্যাক্কাড়া? (মি = আপনার,উরু = দেশ, অ্যাক্কাড়া = কোথায়)।

তাহলে দেশের সংজ্ঞা কি? একটা নির্দিষ্ট অঞ্চল না জায়গা ?

সবাই ভারতীয় বা বাংলাদেশী, তবু অঞ্চলটা জানা চাই । এটার কারণ কি ? সংস্কৃতি না একাত্মতা ?

আমাকে অনেকেই বলেন :  মুসলমান প্রীতি আপনার যখন এতই, তখন বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছিলেন কেন বা  চলেই যান ওখানে, মুসলমানদের ত্যালানোর দরকার নেই।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলি : মানুষ চট করে নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে আসতে চায় না।  পারিপার্শ্বিক অবস্থা তার জন্য দায়ী। একদম সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ দেই। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি হয়ে গেছে। তবু, ভারতের ছিটমহলে থাকা বাসিন্দারা বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ, ওই ভিটে মাটি। রাষ্ট্রের থেকেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে- বহুদিন ধরে বাস করা বসতের। কি অবস্থায় আমার পূর্বপুরুষরা ছেড়ে এসেছিলেন, তাঁদের ভিটা সেটা তাঁদের অশ্রুতে লুকিয়ে রয়েছে।

ভারত নামে ধর্ম নিঃস্পৃহ হলেও হিন্দু গরিষ্ঠ দেশ। সেই দেশে বসে একজন হিন্দু হিসেবে, মুসলমান ত্যালানোর কোনও প্রয়োজন আমার নেই। তবু কেন এই সব কথা বলি?

আবার বাংলাদেশে হিন্দুদের বলা হয় – তোদের বাপের দেশ, হিন্দু ভারতে চলে যা। আরে বাবা, যেতে যদি হয়ই- তাহলে বাংলাদেশের হিন্দুরা তো, সংখ্যা গরিষ্ঠ হিন্দুদের দেশ নেপালেই যেতে পারে আর থাকবেও নিরাপদে ।

কিন্তু, যায় না! কেন ? সংস্কৃতি ভিন্ন আর  ওই ভিটে মাটি না ছাড়ার জেদ।

দেশের ধারণা বা দেশপ্রেম ঠিক কি জিনিস?

প্রবাসে- বাঙালিদের গোষ্ঠী আলাদা, তার মধ্যে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ  মিলে মিশে একাকার। ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন আছে বটে, তবে অন্যান্য ভাষাভাষীদের আলাদা স্বতন্ত্র গোষ্ঠী আছেই । ভারতেই দেখুন। কালীবাড়ি থেকে শুরু করে নাটকের দল সবই পাবেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে । কেন, না ঐ সংস্কৃতির টান!

যদি ঠিক ঠাক ইতিহাস মন দিয়ে পড়ি- তাহলে দেখতে পাবো, শাসককে তুষ্ট রাখাই প্রজাদের কাজ ধর্ম নির্বিশেষে। মোঘল জমানায় তো রাজপুতরা সম্রাটদের সাথে বিয়েও দিয়েছেন, নিজের বোন বা মেয়ের সাথে।

অখণ্ড বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়। আবার পয়সাওয়ালা বা ধনীরাও সমাদর পেয়েছে রাজা বা সম্রাটের কাছে। গরীব বা মধ্যবিত্তরাই তাদের “ধর্ম” নিয়ে মাথা ঘামিয়েছে বরাবর।

মুসলমান শাসক যেমন হিন্দু বড়লোকদের কাছে টাকা ধার নিয়েছে, একই ভাবে উল্টোটাও সত্যি। শাসক – তখৎ বা সিংহাসন ধরে রাখার জন্য উদগ্রীব কেন?

অফুরন্ত ক্ষমতা আর টাকার জন্য ।

এই যে  অর্থনৈতিক বন্ধন- এটাই তো আসল কারণ। অর্থনীতির বন্ধনের কাছে আর সব কিছু তুচ্ছ । আগে তো ছিলই আর বর্তমান কালেও দেখবেন “ধর্ম” কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য টাকার খেলা। একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলকে নিজেদের তাঁবেতে রাখার জন্য টাকার হরির লুট তখনও ছিল- এখনও আছে।

সম্প্রীতির মধ্যে যদি কৌশলে ঘৃণা না ছড়ানো যায়, তবে শাসকের অবস্থা টলোমলো হবে- এটা স্বতঃসিদ্ধ। প্রাচীন ভারতের দিকে যদি আমরা নজর ফেরাই, তবে দেখবো – “অখণ্ড ভারত” কখনই সেভাবে ছিল না। টুকরো টুকরো রাজ্যে বিভক্ত আর শাসকরাও আলাদা। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বা সম্পদ লুঠ করার জন্য আক্রমণ – প্রতি আক্রমণ করা হতো। দরকারে, নীরিহ লোকেদের হত্যা করা হতো নির্বিচারে। গোঁফে তা দিয়ে শাসকরা উপভোগ করতেন এই সব, কারণ শক্তি দেখিয়ে  আনন্দ পাওয়া।

একটু এগিয়ে আসি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ কেন ব্যর্থ হয়েছিল? শুধুই কি যোগাযোগের অভাব না অন্য কিছু?

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যে দক্ষিণী বা পাঞ্জাবের অধিবাসীরা যুদ্ধের জন্য বিখ্যাত, তারা খুব একটা মাথা ঘামায় নি। কেন না, অখণ্ড রাষ্ট্রের  ধারণাটাই জন্ম নেয় নি তখন। খালি ধর্ম নয় – আমরা চেয়েছি আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব। পরিপূর্ণ ভারত আমরা তখনও চাই নি এখনও নয়। আঞ্চলিক দলগুলোর রমরমা সেটাই প্রমাণ করে।

 ১৮৫৭ সালের ঠিক একশো বছর আগে ১৭৫৭ সালে তাহলে কি রাষ্ট্রের ধারণা ছিল?

আশা করাই অন্যায় । নামে মাত্র দিল্লির মোঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর বা ২য় বাহাদুর শাহ্‌ ১৮৫৭ সালে শেষ সম্রাট। সিপাহী বিপ্লবের শেষে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁকে কেন নেতা বলে মেনে নিতে অস্বীকার করে বিদ্রোহীরা ?

সম্রাট ফারুকশায়ারের রাজত্ব কাল ছিল ১১ ই জানুয়ারি ১৭১৩ থেকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ১৭১৯- মোট ৬ বছর ৪৮ দিন। তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন বাংলায় প্রথম আসা মাড়ওয়ারী ব্যবসায়ী ফতেচাঁদের আর্থিক সহায়তায় ।প্রথমে,  নবাবের পদ দিতে চাইলেও ফতেচাঁদ নিতে অস্বীকার করেন – ব্যবসার স্বার্থে। তাই তিনি উপাধি পান – জগত শেঠ বা পৃথিবীর মহাজন । ইংরেজিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকার । ২০০০ জন নিজস্ব  সশস্ত্র সেপাই রাখার অনুমতিও পান তিনি সম্রাটের কাছ থেকে। বাংলার নবাবের পাশে বসারও অনুমতি পান ফতেচাঁদ ।

সম্রাট ফারুকশায়ারই ১৭১৭ সালে ইংরেজদের, বাংলায় শুল্ক-বিহীন ব্যবসা করার জন্য অনুমতি দেন।

ফতেচাঁদ নিজের কথা ভেবে কোনও বাধা দেন নি। দেশপ্রেমই যদি থাকতো- ফতেচাঁদ তো বাধা দিতেন, তাই না? আসলে ওই অর্থনৈতিক বন্ধন বা ইকনমিক্যাল বণ্ডেজ। সাধারণের কথা না ভেবে  নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়া।

নবাব সরফরাজ খানের (মৃত্যু- ২৯শে এপ্রিল, ১৭৪০) সময়ে বাংলার অবস্থা কি ছিল, সেটা একটু দেখা যাক! সরফরাজ খানের আসল নাম ছিল :-  মির্জা আসাদুল্লাহ। সরফরাজ খানের মাতামহ নবাব মুর্শিদ কুলি খান সরফরাজকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নবাব  হিসেবে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।

একটা ব্যাপার কি কখনও লক্ষ্য করেছেন বা ভেবেছেন – এই যে ঢাকাইয়া মসলিন এত বিখ্যাত ছিল, সেটা কেন উবে গেল ?

বলা হয়, একটা হাতে পরার আংটির ভেতর দিয়ে গলে বেরিয়ে যেত এই মসলিন, তবে এটা মিথ বা অতিকথন হতে পারে তবে ওই যে একটা প্রবাদ আছে :- যা রটে, তা কিছুটা বটে!

ব্রিটিশ শাসন আসেনি বটে, তবে কোম্পানি চলে এসেছে ব্যবসা করতে।  মুর্শিদাবাদ, কাশিমবাজার, সূতা লুটি ( এখনকার শোভাবাজার), ঢাকা এবং বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় কুঠি। কেতার নাম ছিল এই সব কুঠির – ফ্যাক্টরি ।

এখানে কাজ করা বেশীর ভাগ লোকই ছিল হিন্দু। এরা সেকালের সরকারি ভাষা ফার্সি সেভাবে শেখে নি, তবে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি শিখেছিল। এদের পোশাকি নাম ছিল – গোমস্তা। ফার্সি শব্দ গুমস্তা থেকে এই গোমস্তা এসেছে। আসল অর্থ হলও জমিদারদের খাজনা আদায়কারী, কিন্তু এরা ইংরেজদের হয়ে খাজনা তো আদায় করতোই- উপরন্তু এরা কেরানীর কাজও করতো। মুসলমানরা তো তখন শাসকের জাত । তাই সরকারি ফার্সি ভাষা ছেড়ে ইংরেজি শিখতে এরা আগ্রহী ছিল না। ভাবতেও পারতো না, কোনোদিন ইংরেজরা একদিন ক্ষমতা দখল করবে। এটা অবশ্য হিন্দুরাও ভাবে নি, তবে ফাটকা টাকা ইংরেজদের কাছ থেকে বেশী পেত বলে ফ্যাক্টরিতেই কাজ করতো। গোমস্তা অবশ্য নবাবদেরও থাকতো, তবে সেখানে হিন্দুরা থাকলেও দাপট ছিল কম। কোম্পানির গোমস্তরা গ্রামে গ্রামে অত্যাচার চালাত খাজনা আদায়ের নামে । নিরীহ গ্রামবাসী থেকে তাঁতি, রাজা –জমিদাররাও চুপ করে থাকতো। নবাব সরফরাজ তো বটেই।

সোজা কথায়- এরা ইংরেজদের  দাপটকে প্রচণ্ড ভয় পেতো আর নবাব পেতো মোটা অঙ্কের ঘুস।

কোম্পানির এই দ্বি শাসনে (ডাবল গভরমেন্ট )  অতিষ্ঠ হয়ে গেছিল লোকজন। সারা বাংলায় তখন অনাচারের রাজত্ব।

(BOLTS: – CONSIDERATION OF INDIAN AFFAIRS)

ব্যক্তিগত স্বার্থের মোহ এতটাই যে নবাব এগুলো জেনেও চুপ করে থাকতো।  প্রতিবাদ করাই যেত। অসুবিধে ছিল না কারণ তাতে ইংরেজ ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ হতো না। ফলে- গোমোস্তরা নিজেদের কাছারিতে তাঁতিদের ডেকে এনে নিজেদের সর্ত মতো দাদন দিত আর শাসানী থাকতো- ওলন্দাজ বা ফরাসী ব্যবসায়ীদের কাপড় বিক্রি করা চলবে না। সর্ত না মানলে সকলের সামনে চাবকে পিঠের ছাল তুলে নিতো ওরা আর স্থানীয় জমিদাররা কিছু বলতেই সাহস পেতো না ।

জমি জমা যতটুকু থাকতো তাঁতিদের, সেটা তো যেতই উপরন্তু ঘরের মেয়ে বউদের টেনে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো যৌন ক্ষুধার্ত ইংরেজদের হাতে ।

কারা সেই সব ইংরেজ? ভালো ঘরের ছেলেরা আসতো না। কারণ ছিল নানা রোগের ভয় । সব ছিল বাপে খ্যাদানো মায়ে তাড়ানোর দল। ইংরেজ মেয়েরা আসতোই না তখন। এবারে তখনকার মেয়েদের “সতীত্ব” চলে গিয়ে সমাজে পতিত হতো। মোট কথা  গৃহহীন সহায় সম্বল হীন তাঁতিরা, আর  বাস করতেই পারতো না সেই গ্রামে।

প্রবাদ আছে ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে আর ১৭৭৮ য়ে কাশিমবাজার আর ঢাকা থেকে যথাক্রমে ৭০০ আর প্রায় ১০০০ তাঁতি শহর ছেড়ে পালিয়ে যান অজানার দিকে। অনেকটা লুপ্ত হল বাংলার বয়ন শিল্প আর মসলিন তো বটেই।

তথ্য :- দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের বই – মহারাজ নন্দকুমার (১৯৩০)।

+++++++

এখানে, একটা কথা বলা দরকার। বাঙালিরা এত “ ধর্মভীরু” কেন হয়েছিল!  এটাতো ঠিক- বাঙালিরা এককালে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সমুদ্র যাত্রা করেছে। সিংহল থেকে শুরু করে ব্যবিলনে গিয়েছে তারা। খৃস্টপূর্ব ৬৩২ থেকে ৫৩২ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন সম্রাট নেবুকাডনেজার। সম্রাটের বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাসাদে দেখা যায়, বাঙালি হাতের কারুকার্য এবং বাঙলার কাঠ। সমুদ্র যাত্রায় প্রচুর অকাল মৃত্যু হতো বলে- সেকালে বিধান এলো, সমুদ্র যাত্রা করলে জাত যাবে। অকালমৃত্যুর ফলে ঘরে ঘরে মা সন্তানহীনা, মেয়েরা বিধবা। সমুদ্রযাত্রা ঠেকাতেই হল।

বাঙালি ধীরে ধীরে স্পর্শকাতর “ভীতুর” জাত হয়ে গেল, বিশেষ করে জাতের নামে।

যাই হোক ,তখন কিন্তু ধর্ম রক্ষার নামে  তখনকার জগত শেঠকে ( মহতাপ চাঁদ)  বাধা দিতে দেখা যায় নি। সরফরাজ খান যখন মহতাপ চাঁদের সুন্দরী বিবাহিতা মেয়ের শ্লীলতা হানি করে ধরা পরার পর জামাইয়ের মাথা কেটে ভেট দিলো – মহতাপকে, তখন টনক নড়ল ধর্ম রক্ষার। পরে ঠিক এই বদনামটাই এসে পড়েছিল – সিরাজের ঘাড়ে। যদিও সিরাজ এই ঘটনার জন্য কোন ভাবেই দায়ী নয়। আবার সিরাজের হারেমে নাকি ঠাঁই হয়েছিল সরফরাজ খানের সুন্দরীদের। এটা জানা যায় অনেক পরে – ইংরেজদের কাছ থেকে। তবে, এটা অনেকেরই বিশ্বাসযোগ্য নয়। একটাই কারণ সরফরাজের হারেমের সুন্দরীরা সিরাজের মাতৃসমা তখন।

আসলে  দরকার ছিল একটা কলঙ্কের যাতে সিরাজ কোনোভাবেই তখ্কতে বসতে না পারে ।

এখানে আরও একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে সিরাজের যে তিন চারজন বেগমের সন্ধান পাওয়া গেছে তার মধ্যে- দুইজন প্রধান বেগম কিন্তু মূলত হিন্দু এবং অসামান্যা রূপসী ছিলেন  !

সিরাজ কি এদের জোর করে বিয়ে করেছিলেন ?

সাক্ষ্যপ্রমাণ যতটুকু পাওয়া গেছে, তাতে এটা মোটেই ঠিক নয়। সিরাজের প্রথম বিয়ে, তাঁরই অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি, কাশ্মীরি হিন্দু মোহনলালের নিজের বোন মাধবীর সাথে। মাধবীর ডাক নাম ছিল – হীরা। এঁর নামেই তৈরি হয়েছিল – হীরা ঝিল, যা এখন তলিয়ে গেছে গঙ্গাতে। আলিবর্দি জানলে মহা অনর্থ হবে ভেবে পরে মাধবীকে ধর্মান্তরিত করে নাম দেওয়া হয় আলেয়া। মিরমদন ( বাঙালি কায়স্থ ) মারা গেলেও মোহনলাল মারা যান নি ১৭৫৭ সালের যুদ্ধে। বরং  সিরাজ এবং আলেয়ার ছয় বছরের  ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান ময়মনসিংহের দিকে, দুই বিশ্বস্ত অনুচর বাসুদেব আর হরনন্দকে নিয়ে। তাঁরা আশ্রয় নেন – ময়মনসিংহের বোকাইনগরের দুর্গে। মোহনলালের একমাত্র জামাই ছিলেন ধর্মে মুসলমান। নাম:- বাহাদুর আলী খান। এই খান সাহেবও সিরাজের বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন।

মোহনলাল যে পলাশীর যুদ্ধে মারা যান নি, সে কথা ঐতিহাসিক এবং অধ্যাপক অমলেন্দু দে জোরের সঙ্গে এবং যথেষ্ট প্রমাণ সহকারে এটা লিখেছেন  তাঁর বিখ্যাত গবেষণার  বই- “ সিরাজের পুত্র এবং বংশধরদের সন্ধানে” (পারুল প্রকাশনী) বইতে ।

সিরাজের অন্য বেগমের নাম ছিল রূপ কানোয়ার ।  তিনিই ধর্মান্তকরণের পর পরিচিতি লাভ করেন লুৎফুন্নেসা নামে।

( চলবে)

Latest posts by রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল (see all)