টেস্টিং, টেস্টিং, গিনিপিগ টেস্টিং

সকালবেলা হলে নিয়ম করে খাতা নিয়ে বসাটা কেমন যেন আস্তে আস্তে নিয়মে পরিণত হচ্ছে। কী লিখব না ভেবে লিখতে শুরু করা কেমন জানি কী চাইব না জেনে ভগবানের কাছে হাত জোড় করার মত! আমার স্থির বিশ্বাস হাত জোড় করার পরই চাওয়ার লিস্টটা ভাঁজ ভাঙে।

আজ সকালের রোদটা গতকালের থেকে শক্তিশালী। বুঝছি, গরমকাল বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। সাথে দুটি ছানা – আরাম আর ব্যারাম। প্রথম জন সময়ের সাথে ছোট হয় আর পরের জন হয় বড়। লেখার পাতার ওপর আপাতত আরামকেই হেসে লুটোপুটি খেতে দেখছি।

লিখে কাউকে পড়াতে না পারলে কেমন জানি লাগে! মনে হয়, অসমাপ্ত রয়ে গেল, শেষ ফুল-স্টপটা পড়ল না। কিন্তু ফুল-স্টপ দেওয়ার আনন্দে যাদের ব্যাস্ততা আর ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে আমি লেখা পড়াই, তাদের জন্যে মায়াই হয়। কিন্তু, কী করব? গিনিপিগের ওপর টেস্ট না করলে যে আমি পাগল হয়ে যাব!

আমার আছে দুটি গিনিপিগ। একজন আছে সিঙ্গাপুরে – সম্পর্কে জা, আরেকজন ঘরে। সিঙ্গাপুরের গিনিপিগকে যাও বা ছাড় দিতে পারি, ঘরের জনকে কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।

 

purna2আমার ল্যাবে তৈরি খাবারের (অর্থাৎ কিনা লেখার) গুণগত মান যাচাই করাটাই উদ্দেশ্য। তাই গিনিপিগের কবে ক্ষিদে পেল কি পেল না, তাদের কবে ষষ্ঠি, কবে একাদশী, কখন শরীর খারাপ, কখন মন খারাপ – তা আমি পাত্তা দিই না। শনি-রবি ছাড়া কোনো ছুটি নেই। তাও আমি দিতে চাই না, কিন্তু কী করব, বেচারাদের ওপর বড্ড জুলুম করি, তাই একটু ছাড় দিতে হয়।

যেমন গতকাল, আমার ঘরের গিনিপিগটা খেতে খেতে ঘুমিয়েই পড়ল! শুধু তাই নয়, নাকও ডাকতে থাকল। কিছুটা লেখা নষ্ট হল। যাকগে, অন্তত কিছুটা লেখা তো খাওয়াতে পেরেছি। ঘুম থেকে উঠে বলে, ‘তাহলেই বোঝো, কেমন ভাল লেখা হচ্ছে, আমি আরামে ঘুমিয়েই পড়েছি।’

মনে মনে ভাবলাম, বটে! এই যদি কোনো ওস্তাদের বাজনা শুনতে যেতে, ২০০০ টাকার টিকিট কেটে, আর শুনতে শুনতে আরামে নাক ডেকে ঘুমোতে, তাহলেও কি এমন করে বলতে! তখন তো ত্রাহি ত্রাহি রব – গেল গেল, আমার সব পয়সা জলে গেল!

মানছি, আমি ওস্তাদ নই। কিন্তু, সে তো তোমাদের কাছে। নিজের কাছে তো আমি ভয়ানক বড় মাপের ওস্তাদ। কবিগুরুর থেকে দু’আঙুল নীচেই আমি! এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল আমার বাবার কথা। কেউ বা কোনো জিনিস যদি খুব কালো হয়, তাহলে তাকে বর্ণনা করার সময়ে বলবে, ‘না না, কালো নয়, কাক সে কুছ সাদা!’

সিঙ্গাপুরের গিনিপিগকে একটু ছাড় দিতেই হয়। কারণ ওর নিজেরই একটা ল্যাব আছে, আর সেখানে মেপেজুপে ঠিকঠাক রেজাল্ট না দিতে পারলে, ফান্ডিং এজেন্সি থেকে বড় চাপ! কিন্তু ও ভাল গিনিপিগ। ঘরেরটার মত খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়ে না। ও একজন ফ্রিলান্স লেখিকা।

ঘরেরটারও জীবনে চাপ কিছু কম নেই। রোজ সক্কাল সক্কাল বেরোয় ছাত্র চরানোর জন্যে। বাড়িতেও এসে রেস্ট নিতে পারে না। আমি সারাদিন কী কী কাজ করিনি, সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা নাকি!

ভাবছি, আরো কয়েকটা এরকম গিনিপিগ খুঁজে বের করব, তাহলে এদের ওপর চাপ কমবে। তাই এখানে টেস্ট করতে এলাম। একটা জরুরি জিনিস হল, তাদের বাংলায় খেতে হবে, ইংরেজিটা আবার ঠিক মত বানাতে পারি না!

~ ইতি,

পূর্ণা

Latest posts by পূর্ণা মুখার্জী (see all)