(পূর্ব প্রকাশিত অংশটি পড়ুন এখানে)

যাক এই ধানাই পানাই বকার একটা উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্য বিনা কার্য হয়না। কিছুদিন আগে থেকে কলকাতাবাসীরা কেউ খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, দেয়ার ইজ আ নিউ গড অন দা হরাইজন। তার নাম –‘ শ্যামবাবা’। শুনলে সাধারণ ‘হিন্দু’ রা অবাক হবেন, বাবা বলতে পেটমোটা কিংবা অতিকায় ফ্যালিক সিম্বল, পুরুষতন্ত্রের প্রতীক শিবঠাকুর। শ্যাম তো চিরকেলে প্রেমিক, সে আবার ‘বাবা’ হল কবে? যদিও পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে কেষ্টবাবুর ছেলেপুলে হয়েছিল, কিন্তু মন্দিরে পূজো পায় বালক গোপাল কিংবা তিনব্যাঁকা (ত্রিভঙ্গ মুরারী) প্রেমিক শ্যাম । তাহলে ‘বাবা’ এল কোত্থেকে?

তাহলে বলি শুনুন, এ শ্যাম সে শ্যাম নন। মন্দিরে ঢুকলেই বুঝবেন। ইনি শুধু একটি কাটা মুন্ডু। আরও গুলিয়ে যাচ্ছে? গোলাবেই। তাই তো এতবড় স্টেটাস। তবে শুনুন, মহাভারতের কাহিনী অনুসারে এঁর নাম বর্বরিক অথবা শর্টে, বব্রিক। ইনি ভীমের, মতান্তরে ঘটোৎকচের পুত্র। ইনি এতবড় বীর ছিলেন, যে এঁকে হারানো কারো সাধ্য নয়, একথা সবাই জানত। মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হতে কিছুদিন ইনি চুপচাপ দেখছিলেন, তারপর আর থাকতে না পেরে অস্তর শস্তর নিয়ে ইনি রওনা দিলেন করুক্ষেত্রের দিকে। ত্রাহি ত্রাহি রব, কেননা জানা গেল ইনি যুদ্ধে পার্টিসিপেট করবেন, তবে এঁর মতি হল, যে হারছে, আমি তার হয়ে খেলব। এবার হারছে তো কৌরবরা। তাহলে পান্ডবের ব্যাটা কৌরবের হয়ে খেলবে? আর খেললে পরে তো দশ গোল দেবে। মুশকিল আসান কেষ্টদা। ভিখারি ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধারণ করে সামনে হাজির। (এইজন্যই ওঁরা ব্রাহ্মণদের ভিখারি বা ভিখমাঙ্গা বলেন কিনা জানা নেই)।

কেষ্টদা বললেন, ভিক্ষাং দেহী। ক্ষত্রিয় বীর, তার কাছে কেউ কিছু চেয়ে ফেরত যায় না। বর্বরিক ( খেয়াল করবেন, ইংরিজিতে লিখলে – Barbarik ) বললেন, কী চান দ্বিজবর? বামুন ব্যাটা বলল, তোর মুন্ডু চাই। ব্যস, উনি বুঝে গেলেন এই বামনাটা আসলে কে? Barbarik বললেন, ও কে, আই উইল গিভ ইয়া মা’ হেড। আই নো হু ইউ আর। কিন্তু প্রভূ এক শর্তে। আমার কাটা মুন্ডুটা নিয়ে গিয়ে ওই পাহাড়ের মাথায় এমন করে বসিয়ে দিন, যাতে আমি পুরো যুদ্ধটা দেখতে পাই। কিরিষ্টো বললেন, তথাস্তু। তা ছাড়া তোমার এই স্যাকরিফাইস লোকে ইয়াদ করবে আজীবন। কলিযুগে তুমি ভগবান হিসেবে পূজো পাবে। আর আমার নামে তোমার নাম হবে – ‘শ্যামবাবা’।

রাজস্থানের খাটুতে এই বব্রিকের একটা বহু প্রাচীন মন্দির ছিল। কালের প্রভাবে তার ভাঙাচোরা অবস্থা। এই সব মিথিকাল হিরো/হিরোইনদের আঞ্চলিক পূজো আচ্চা হয়, যেটার সার্বিকভাবে কোনও ইম্প্যাক্ট নেই। হিমাচলে দুর্যোধনের মন্দির আছে, হিড়িম্বার মন্দির আছে। আমাদের খোদ বাংলায় হুগলি এবং বর্ধমানের অনেক জায়গায় ভীমপূজো হয়। অতিকায় মাসকুলার ভীম গদাহস্তে  দাঁড়িয়ে থাকেন রাস্তায় ধারে অথবা মাঠের মাঝখানে। হ্যাঁ এখানে আবার নিয়ম আছে, প্যান্ডাল করা চলবেনা। মাথার ওপর আচ্ছাদন থাকবেনা (কেন কে জানে)। পূজো হয়ে গেলে রোদে জলে পড়ে থাকবে মূর্তি। আমরা বাঙালি তো, উত্তর ভারতীয়রা যেমন ‘জয় শ্রীরাম’ বলে বাংলায় ঢুকে পড়ল, আমরা কিন্তু ‘জয় শ্রীভীম’ বলে উত্তর বা দক্ষিণ ভারতে থানা গাড়তে পারলুম না। – ছ্যাঃ ছ্যাঃ।

তা রামায়ণ থেকে মাত্র দুচারটে ক্যারাকটারই ‘ভগবান’ স্টেটাস পেয়েছে। আমাদের লক্ষণ ভাইও শুধুই সাইডকিক, নিজে দেবতা নয়। কিন্তু মহাভারত অনেক পরের কাব্য হলেও বিভিন্ন রিজিয়নে বিভিন্ন দেবতা গেড়ে বসেছেন এই মহাকাব্যের দৌলতে, কে কে কোথায় কোথায় বসে পড়েছেন, তা আগেই বলেছি। এবার এই বর্বরিক রাজস্থানের ‘খাটু’ নামক জায়গায় একটা ভাঙাচোরা মন্দিরে বসেছিলেন কাটামুন্ডু নিয়ে। ওই মন্দিরে ক্ষত্রিয়রা পূজো দিত, তাও আবার বছরে একদিন কী একটা উপলক্ষে ( অত ডিটেল কব্জা করতে পারিনি এখনও)। মন্দিরটাও অনাদরে অবহেলায় প্রায় ভগ্ন দশায় পড়ে ছিল। হঠাৎ কোত্থেকে সেই অগ্রহরি সমাজের কোনও এক মোড়লের মাথায় কিছু একটা খেলল। একটা অলৌকিক গল্প পয়দা হয়ে গেল রাতারাতি। খাটু মন্দিরের জয়জয়কার বিশ্ব(?) (সেটাই নাকি ক্লেম) জুড়ে শুরু হয়ে গেল। এখন সেই ‘শ্যামবাবা’ আগরওয়ালদের দেবতা। খাটুতে সেই বিশেষ দিনে কত লক্ষ মানুষের সমাগম হয়, তা শুনলে কুম্ভমেলাও লজ্জা পাবে। খাস কলকাতাতে অন্তত তিন জায়গায় শ্যামবাবার মন্দির হয়ে গেছে। কমলা ও গোলাপি ফ্ল্যাগ নিয়ে রাস্তা আটকে প্রোসেশন হয় প্রত্যেক মাসে। বছরে তিনদিন ‘জাগরণ’, মানে, ওই বরাহনন্দনগুলো জাগবে সারা রাত, আর ডেসিবেল যে উচ্চতায় পৌঁছবে বিশাল বিশাল সাউন্ড বক্স থেকে, তাতে সারা পাড়াও জাগতে বাধ্য হবে। বাগুইআটির দিকে কেউ থাকলে ভাল বলতে পারবেন। যে দেবতার অস্তিত্বের কথা পাশের গাঁয়ের লোক জানতনা বছর দশ বারো আগেও, সে ভারতজুড়ে দখলিসত্ব কায়েম করছে রাতারাতি, প্রত্যকে জায়গায় একটা অলৌকিক গল্প রটিয়ে।

এই শ্যামবাবা কাদের দেবতা? হিন্দুদের?

যে তারা মায়ের মন্দিরে গিয়ে সুভাষ চক্কোত্তিকে শিপিয়েম প্রায় বের করেই দিয়েছিল, সেই ‘তারা’-ও কিন্তু বৌদ্ধ ধর্ম থেকে হাইজ্যাকড। তবে এখানেও কমিউনিজমের ডাব্‌ল স্ট্যান্ডার্ড – সেই গলায় গামছা মন্ত্রী (এখন অন্য কারণে পার্টির বাইরে) হজ করতে গেলে আলিমুদ্দিন চুপ। কিন্তু সুভাষ চক্কোত্তি তারাপীঠে গেলেই মহাভারত ডিসিক্রেটেড, ভাই পারিস বটে।

চুপি চুপি বলি, খুব তাড়া করবে লোকে, তিরুপতি মন্দিরের লর্ড ভেঙ্কটেশ্বোয়ারা-ও কিন্তু হাইজ্যাকড। আসল মূর্তিটা অন্য কোনও দেবতার ছিল। কেউ বলে শিবের, আবার কেউ বলে এটা অজ্জিনালি মেয়েছেলের মূর্তি ছিল, কালীর।

যাকগে সে সব কথা, এবার চলুন সাউথে। সোয়ামী (স্বামী) আয়াপ্পন – সাংঘাতিক দাপুটে এবং ‘জাগ্রত’ দেবতা। তিনি লোকটি(?) কে? না শিবের ঔরসে, মোহিনীরূপী বিষ্ণুর গর্ভে জাত সন্তান। হুঁ হুঁ বাওয়া, বাঘের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ান ( অনেকটা আমাদের দক্ষিণ রায়)। তা বিষ্ণু তো অসুরদের কাছ থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে অমৃত উদ্ধারের সময়ে টেম্পোরারিলি মোহিনী মূর্তি ধরেছেন, আসলে তো ব্যাটাছেলে। তেনার আবার গভভো হয় কেমনে। ও হ্যাঁ, ভষ্মাসুরের নিজের মাথায় হাত দিয়ে মরার সময়েও মোহিনীর সিডিউসিং অ্যাক্টো ছেল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, – পিকচার আভি ভী বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত – বিষ্ণু কোথায় কোথায় এবং কখন কখন মোহিনী মূর্তি ধরেছেন, তার ইতিবৃত্ত যদি পুরান টুরান ঘেঁটে (অন্যথায় ইন্টারনেটে গুগ্‌লকাকু) বের করে পড়ে উঠতে পারেন, দেখবেন তার পর নিজের নাম আর মনে পড়ছেনা।

কেরালায় ম্যাটানচেরি প্যালেস বলে একটা রাজপ্রাসাদ আছে। গেলে মনে দুঃখ পাবেন, কেননা যদি আপনার ফ্ল্যাট না থেকে একটা বড়সড় দোতলা বাড়ি থেকে থাকে, সেটা ওই ‘প্যালেস’ এর চেয়েও বড়, এটা নিশ্চিত। তবে কেন যাবেন সেই মহার্ঘ্য ‘রাজপ্রাসাদ দেখতে? তার কারণ তার অনেকগুলি ঘরের দেয়ালে আছে অসাধারণ চিত্রকলা, সবই ন্যাচরাল ভেজিটেব্‌ল ডাই দিয়ে আঁকা। কিছু ঘরে তা সম্পূর্ণ, কোথাও অসম্পূর্ণ, একটা ঘরে তো শুধু খয়েরি রঙ দিয়ে আউটলাইন করা হয়েছিল, তাতে রঙচঙ পড়েনি। এই ‘রাজপ্রাসাদের’ রাজার বেডচেম্বার, মানে শোয়ার ঘরে যদি ঢোকেন, দেখবেন দুই দেব দেবীর ‘লীলে’ করার ছবি চার দেয়াল জুড়ে। সেই ছবিরা কোনারক বা খাজুরাহকেও লজ্জা দেবে, এতই এক্সপ্লিসিট, যদিও শিল্পের দিক থেকে অসাধারণ। কারা সেই দেব-দেবী? না শিব আর মোহিনী, যে নাকি অজ্জিনালি ব্যাটাছেলে, মানে বিষ্টু।

আমরা বাঙলায় বসে ‘মোহিনী’ বলতে তো শুধু মোহিনী কাপড়ের মিলের নাম জানতাম, তা সেও অনেক দিন আগেই উঠে গেছে। আপদ গেছে।

এনারা, মানে এই ‘বর্বরিক’, আয়াপ্পন, কাদের দেবতা? হিন্দুদের? মানে, আমি যদি গর্ব করে বলি আমি হিন্দু, তবে আমায় কি ‘শ্যামবাবা’র জাগরণে বসতে হবে সারা রাত, পরের দিন অফিস থাকলেও?

আমি যেখানে থাকি, সেই অঞ্চলে গত তিরিশ বছরে গেরস্ত বাঙালির সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে। একতলা দোতলা বাসগৃহ ভেঙে যে ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরী হয়েছে, সেগুলোতে বাঙালি ১০%। বাকি সব ভাষাভাষি যাও বা আছে, ৭০% বাসিন্দাই বিহার ও ইউপির লোক। এদের এই বাজারেও জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই, আমার বাড়ির উল্টোদিকেই একজনের ৯টি সন্তান। সে আদ্দিকালের লোক নয়, আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট। যাক সে কথা, এদেরই একজন একদিন একটা ছোট গাছের চারা হাতে করে আমার বাড়িতে এসে বলল, আমার বাড়িতে তো জায়গা নেই, যদি আপনার সামনের ওই কোনাটায় একটু পুঁতে দেন। আমি বললাম, কী গাছ এটা? সে বলল, আমলকি। আমলকি গাছ শহরে চট করে দেখা যায়না, আমি তো গাছটা পুঁতেই দিলাম। লোকটা বলল, আপনার কাছে দিলে যত্নে থাকবে, আমার তো দরকার বছরে মাত্র একদিন। আমি কিছুই বুঝিনি সেকথার মানে। দরকার, কীসের দরকার? যাক, কিছুদিনের মধ্যেই সে গাছ বিশাল হয়ে গেছে। আজ থেকে দিন তিন চার আগে, হঠাৎ দেখি গাছের তলায় ঝাটপাট দিয়ে (আমি আবার বিহারিদের পাড়ায় থাকতে থাকতে, ‘ঝাট’ –এ কিছুতেই চন্দ্রবিন্দু লাগাতে পারিনা) পরিষ্কার করে, ধুপ ধুনো ফুনো জ্বালিয়ে একসা। আমি বললাম, কী ব্যাপার, কিছু পূজো ফুজো নাকি? সে একগাল হেসে বলল, হ্যাঁ ওই জগদ্ধাত্রী পূজোর নবমীর দিনে একটু –ইয়ে – আমি বললাম, জগদ্ধাত্রীর সঙ্গে আমলকির কোনও কানেকশন আছে বলে তো বাপের জম্মে শুনিনি ? সে বলল, না না জগদ্ধাত্রীর সঙ্গে নেই, এটা আসলে নারায়ণ। ঐ নবমীর দিনে করা হয় বলে জগদ্ধাত্রীর নাম নিলাম। – বোঝো কান্ড। সে আরও বলল, গ্রামের দিকে খুব ধূমধাম হয়, আসলে এই গাছের তলায় বসে রান্না বান্না করে খেতে হয়। এখানে আর অত কিছু করা যাবে? তাই ধূপ ধূনো দিলাম, একটু বিস্কুট নিয়ে এসে খাচ্ছি, নিন আপনিও একটা বিস্কুট খান।

আমার প্রশ্ন, এটা কি ‘হিন্দু’ দের পূজো?

সেই প্রদেশের লোকদের ছট পূজো নিয়ে তো এখন মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরটাকে তেনারা এক রাত্তিরে তছনছ করে দিয়ে চলে যান। বুদ্ধবাবু একবার আটকাবার চেষ্টা করেছিলেন, এখন তো মমতাদেবী আরও তোল্লাই দিচ্ছেন, দেবেনই। ভোট ব্যাঙ্ক বলে কথা। গ্রামে না হলেও শহরে এখন পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঙালির চেয়ে বিহারি বেশি। পটকার আওয়াজে সারা রাত্তির জাগতে হবে চাকুরিজীবিদেরও। ডেসিবেল কালীপূজোয় মাপা হলেও এইদিনে ছাড়। ছেলেবেলায় শুনতাম ‘ছটপরব’। সেটা বদলে ‘ছটপূজো’ হয়ে গেছে।

কাদের পূজো এটা? হিন্দুদের?

কিছু ‘পোগোতিশীল’ মানুষ আছেন, যাঁরা এসব পড়ে বলেন,  ‘উত্তর ভারতীয়’ আবার কী? ফেস্টিভাল ইজ ফেস্টিভাল, যত্তো সব ‘sick mind’.

এবার সেই মানুষরা  কি বাঙালির বারো মাসে তের পার্বণের পরে, ধনতেরাস, ছটপূজো, আমলকি পূজো, শ্যামবাবার মাসিক পূজো, জ্জে মাতাদি-র পূজো, গণেশ পূজো, সোয়ামি আয়াপ্পনের পূজো, রাস, পোঙ্গল, বিহু, সব পালন করবেন? আমি তো কেবল ‘হিন্দু’দের গুলো বললাম, দুখানা ঈদ, সবেবরাত, মুহরর্‌ম, ক্রিসমাস, ঈস্টার, হ্যালুইন, বুদ্ধ জয়ন্তী, গুরু রবিদাস উৎসব, শিখদের বৈশাখী, সাঁওতালদের হুল, আরও যা যা আমি নিজেই জানিনা, সব করার পর তিনি অফিস বা আদালত বা নিজের কাজের জায়গায় যাবেন বছরে ক’দিন?

কয়েক বছর আগে সমরেশ মজুমদার একটি বাংলা সাময়িকপত্রের পূজো সঙ্খ্যায় লিখলেন, ‘পূজো (দুগ্‌গোপূজো) হচ্ছে বাঙালির বাৎসরিক পুতুলখেলা’। তিনি ঠিকও বলেছেন(যদিও সারকাসটিকালি), ভুলও বলেছেন। ভুল এই কারণে, যে ‘বাঙালি’র একটা বড় অংশের সঙ্গে পূজোর কোনও সম্পর্ক নেই। এটা আর ভেঙে নিশ্চয়ই বলতে হবেনা কেন।  আর ঠিক বলেছেন এই কারণে, যে দূর্গা, কালী, এঁরা হচ্ছেন বাঙালির নিজস্ব ম্যাসকট। ওই যে বললাম, কপালে সিঁদুর, হাতে শাঁখা পলা, মুখে পান মিষ্টি, এঁরা ‘হিন্দু’ দেবতা নন, এঁরা পুতুলই। একজনকে কৃত্তিবাস অন্যজনকে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ ‘সৃষ্টি’ করেছেন। দুজনের উল্লেখই শাস্তরে আছে, কিন্তু এভাবে নয়।  ( তাছাড়া সরস্বতী লক্ষ্মী, কেতো, গনশা পাশে জুটে গেছে, এরা কেউ দুগ্‌গার ছেলেপুলে নয়। মাথার ওপর ‘বর’ শিবের ছবি লাগানো থাকে, দুগ্‌গার বিয়ে হলো কবে? উমা আর পার্বতী যদি দুর্গার নাম হয়, তবে আমার নাম রবার্ট ভদ্র) বাঙাল পুরুত যখন অশুদ্ধ ‘উরুশ্চারণে’ – সর্বমঙ্গইল্য মঙ্গোইল্ল্যে, শিব্যা, সর্বাইর্থ সাধিক্যা, শরৈণ্যে ত্রম্বকে গৌরীঈঈঈ – বলে ‘ওঞ্জুলি’ দেওয়ান, অনেক হার্ড কোর নাস্তিককে দেখেছি ভিড়ে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে যেতে। নতুন তাঁতের শাড়ির গন্ধ, ভিজে চুলের ঝাপটা, একটু পূজো পূজো গন্ধ, ছেলেবেলার অনেক স্মৃতি মাখানো একটা উৎসব –  এ আমাদের পুতুল খেলাই। পুতুল খেলতে তো মার্ক্স থেকে মারকোজ, কেউ বারন করেন নি।

কোনও হিন্দু ফিন্দু বুঝিনা ভাই – গর্বসে বোলো হম বংগালি হ্যাঁয়।