বিয়ের পর বিদেশে প্রথম লাঞ্চ।

দাদা – “কোন কুইজিন পছন্দ তোমার – ইটালিয়ান, মেক্সিকান, থাই?”

বৌদি – “ইয়ে মানে, এখানে একটু গরম ভাত, ঘি আর মুসুর ডাল পাওয়া যায় না?”

দাদা – “এটা কিংস ক্রস স্টেশন – শিয়াল’দা নয়।”

বৌদি – “না মানে, চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?”


 বিয়ের পর প্রথম পুজোয়।

দাদা – “এবার পুজোয় কী নেবে – বাহা শাড়ি, আনারকলি কুর্তা না প্যালাজ্জো প্যান্ট?”

বৌদি – “সপ্তমীতে জিশান, অষ্টমীতে বেলুড়ের ভোগ, নবমীতে বিজলী গ্রিল, দশমীতে মিহিদানা।”

দাদা – “বাহ বাহ, এইটা এক্কেবারে রাজ-যোটক মিলেছে দেখি আমাদের। ভয় পাচ্ছিলাম শপিং করে না জানি কত খসবে।”

বৌদি – “উঁহু, আনারকলি পরে জিশান, বিজলি গ্রিলে প্যালাজ্জো আর বাহা শাড়িতে মিহিদানা – বলছিলাম আর কী!”


 বৌদি – “আজ আবার তুমি টিফিন ফেরত এনেছ?”

দাদা – “রাগ করো না, লক্ষ্মীটি – এক বন্ধুর ট্রীট ছিল।”

বৌদি – “তা কী খাওয়া হল শুনি?”

দাদা – “ঐ কেএফসি বাকেট অর্ডার করেছিল।”

বৌদি – “তাও যদি অনাদির মোগলাই কী কবিরাজি কিংবা নিদেনপক্ষে কফি-হাউসের পকোড়াও বলতে, হয়তো মাফ করে দিতুম।”

দাদা – “এখন উপায়?”

বৌদি – “এক্ষুনি এগ মাটন রোল এনে ভজনা কর, নইলে হেঁসেল বন্ধ।”


দাদা – “হ্যালো?”

বৌদি – “হ্যাঁ শুনছো, বলছি তোমরা মা তো এক সপ্তা বাইরে যাচ্ছেন?”

দাদা – “তো?”

বৌদি – “আমার বন্ধুদের সাথে কিটি পার্টিটা সেরে ফেলি?”

দাদা – “মেনুতে কী থাকবে?”

বৌদি – “আলুর চপ, ঝালমুড়ি, পেঁয়াজি, চিংড়ির চপ আর চা।”

দাদা – “এই আমিও এই ফাঁকে পেটব্যাথা হচ্ছে বলে অফিস থেকে কেটে পড়ি?”


দাদা – “হ্যাঁ গো, আজ তুমি টিফিনে কী দিলে?”

বৌদি – “বলব না।”

দাদা – “সে কী, বলই না?”

বৌদি – “আগে বল – পুরোটা নিজে খাবে, বন্ধুদের খাওয়াবে না?”

দাদা – “ওহহো, এত সাসপেন্স না করে বলই না কী দিলে, দেরি হয়ে যাচ্ছে যে।”

বৌদি – “পরোটা আর কিমার ঘুগনি।”

দাদা – “লাঞ্চ-বক্স দেখার পর থেকে তুমি কত বদলে গেছ, মানু।”


 

Latest posts by প্রিয়াঙ্কা রায় ব্যানার্জী (see all)