“ধুর, ধুর – বিরিয়ানি আর সে বিরিয়ানি নেই!”

“কেন – বিরিয়ানি আবার কী দোষ করল?”

“না মানে এই যে পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিরিয়ানি, প্যান্ডেলে ঢুকতে না ঢুকতে বিরিয়ানি। সকালে অঞ্জলি সেরেই বিরিয়ানি। দুপুরে ডাল ভাতের বদলে বিরিয়ানি। ট্রেন স্টেশনের স্টলে বিরিয়ানি। অটোর লাইনের সামনে বিরিয়ানি। রাতে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিরিয়ানি – ওফফ এ যেন আর পারা যাচ্ছে না।”

“পারা যাচ্ছে না বললেই হল – লোকে তো হুলিয়ে খাচ্ছে। হাঁড়ির পর হাঁড়ি লুটে যাচ্ছে বিরিয়ানির যোগান দিতে। ঘি শেষ হয়ে গিয়ে ডালডা, জাফরান শেষ হয়ে গিয়ে হলুদ, বিরিয়ানি শেষ হয়ে গিয়ে সাদা ভাত অবধি কাবার হয়ে যাচ্ছে – কিন্তু তোর তাতে অসুবিধেটা কোথায়?”

“আহা – সেই পাবলিকের দলে তো আমিও আছি, নাকি?”

“ইয়ে মানে একটা কথা ছিল-”

“এত কিন্তু কিন্তু না করে বলেই ফেল।”

“হায়দ্রাবাদে গিয়ে মাইক্রোসফটের অফারটা শেষমেশ আর নিতে পারলাম না-”

“সে কি, কেন? আজকের দিনে কলকাতায় এই পে প্যাকেট কে দেবে?”

“কেউ দেবে না – জানি তো-”

“তবে?”

“বোম্বে – চেট্টিনাঢ় – হায়দ্রাবাদি – কাচ্চি – সব ঠিক আছে। নিদেন পক্ষে কারিপাতাও হয়তো দু-এক পিস চিবিয়ে নিতুম মাটনের সাথে। কিন্তু তাই বলে আলু বাদ দিয়ে বিরিয়ানি – ওটা জাস্ট চলবে না বস। ঐ একটা জায়গাতেই, কলকাতা পুরো একে।”

“আমার আরও একটা প্রশ্ন আছে স্যার।”

“কী প্রশ্ন?”

“স্যার, এই বিরিয়ানি ব্যাপারটা ঠিক কোত্থেকে এলো?”

“মুঘলদের থেকে। যুদ্ধের সময় রান্নাবান্না করার বিশেষ সুবিধে ছিল না। তাই মাংস, মশলা সব হাঁড়িতে করে কম আঁচে চড়িয়ে তারা যুদ্ধ করতে যেত। যাতে সহজে রান্না হয় আর যুদ্ধ করে ফিরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে খেতেও পায়-”

“স্যার, ঠিক কোন রাজার সৈন্য?”

“এই বিন তুঘলক কিংবা আলাউদ্দিন হবে-”

“স্যার, ঠিক কোন যুদ্ধের সময়?”

“চ্যাংড়ামি হচ্ছে আমার সাথে?”

“স্যার, আপনি গল্প দিলে ক্ষতি নেই, আর আমি ঠিক করে বুঝতে চাইলেই দোষ?”

“চো-ও-ও-ও-প। বহিষ্কার – এই মুহূর্তে ক্লাস থেকে বহিষ্কার-”

“রাঁধুনির চাকরি করতে এসেছ? তা কী কী রাঁধতে পার শুনি!”

“ডাল-তরকারি-পোস্ত-সুক্ত-ডালনা-কালিয়া-ভাপা-মালাই-ডাকবাংলো-”

“দুর দুর – ওসব তো পরে, বিরিয়ানি ভালো বানাতে পারো কিনা তাই বল আগে-”

“ঐ একটু আধটু-”

“না না না – একটু আধটু হলে চলবে না। ওটাই আসল। ওটাই আগে জানতে হবে সবার আগে – ক’চামচ ঘি দেবে, ক’চামচ দই। মশলায় কী কী মেশাবে – কতটুকু জায়ফল, জয়িত্রী, সা’মরিচ। অঙ্ক শিখতে হবে – অনুপাতে যেন ভুলচুক না হয়। ক’ফোঁটা মিঠা আতর লাগবে। দমে বসানোর জন্য ক’পিস কাঠকয়লা – ঠিক কতক্ষণের ভাপ – আর দম খুলেই বা ভাতটা ডেকচির কোন থেকেঙ্কী করে কাটবে – ডিমটাঙ্কী করে মেশাবে – এই সব জানতে হবে, বুঝতে হবে। অনুভব করতে হবে – যে সে ব্যাপার নয় হে।”

“আজ্ঞে, আর বিরিয়ানির সঙ্গে কী খাবেন?”

“অ্যাঁ বল কী – বিরিয়ানির সঙ্গে? মাই গুডনেস – এ কী বললে তুমি। ছি ছি ছি। নাহ, তুমি দেখছি কিচ্ছুই বোঝনি। নিজের দেশের জিনিসই জানো না – আবার আফ্রিকা। বিরিয়ানিটায় কনসেনট্রেট কর আগে – তারপর অন্য কথা।

Latest posts by অভ্র পাল (see all)