কথা ছিলো বাইকে করে যাবার। খুব সকালে বের হবো। কিন্তু নবমীর সকালটা যে বৃষ্টি মাখা!ধুর ছাই, বৃষ্টিটা মাটি করে দিলো সব। অন্য দিন আমি এতো সকালে ঘুম থেকে উঠিই না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো । এমন সময় সবুজের ফোন। কি করে যাই বলো তো? কি আর করা যাবে আজ তা হলে বাদ দাও। না না দাঁড়াও। আমি একটা ব্যাবস্থা করছি।সকাল এগারোটার দিকে আবার সবুজের ফোন। উদয় দা চলো, আমরা একটা মারুতি ভেন ভারা করে ফেলেছি। সেকি, এখন এতবেলায়!আমি তো প্রায় নাই করে দিচ্ছিলাম, আবার ওদের কথা ভেবে.. যাক বেড়িয়েই পরলাম। জলপাইগুড়ি থেকে লাটাগুড়ি হয়ে চালসা দিয়ে মালবাজার থেকে গড়ুবাথান। তারপর পনেরো কিমি দুরে ঝান্ডি।

না গেলে হয়তো জানতেই পারতাম না, জলপাইগুড়ির এতো কাছে সুইজারল্যান্ড।

1

গড়ুবাথান পেরিয়ে নদীটার কাছে এসে যেই দাঁড়ালাম! মনে হলো মা দুর্গা হয়তো কৈলাস থেকে ঠিক এ পথেই এসেছেন। বিস্তীর্ণ কাশ ফুলের গালিচা ভেদ করে নদীর জল যখন নদী জুড়ে ছোট বড় পাথড়ে হুমড়ি খেয়ে এসে পড়ছে,মনে হচ্ছে পেঁজা তুলো মেঘ আকাশ থেকে নেমে এসেছে নদীতে। নীল নয়, আকাশটা ওই দিন ছিলো সাদা ক্যানভাসের মতো। মেঘে ঢাকা হলেও দুরে পাহাড় গুলো নীল দেখাচ্ছিলো । আমার তো মন চাইছিলই না ওখান থেকে সরতে। ওই বেরসিক গুলোর জন্যই যেতে হলো।

2

এবার আর গাড়ির পেছনের ছিটে নয় ভোম্বলের আগেই আমি উঠে পরলাম সামনে। ভোম্বল হই হই করছিলো বটে আমি কানেই দেইনি।

যত দুর চোখ যায় মেঘে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে চা বাগান। তার ভেতর দিয়ে রাস্তা ঠিক মতো দেখা যাচ্ছেনা । তার উপর আবার এতো খাড়া রাস্তা যে আমাদের গাড়ি গো গো করছে। ভয়ে নেমে পড়লাম।  ড্রাইভার বিকাশ আর যেতে চাচ্ছে না। অনেক বোঝানোর পর গাড়ি নিয়ে একাই উঠলো ।

3

আমরা এবার হাটছি। ওরা সবাই লাঠি হাতে এমন ভাবে হাটছে, যেন মনে হচ্ছে অমরনাথ যাচ্ছি ! আমারো কষ্ট হচ্ছিলো। তবে ক্যামেরা হাতে থাকলে আমার আবার ওগুলো মালুম হয়না। তিন চার কিমি হাটার পর গাড়ি দেখা যেতেই ধড়ে প্রাণ আসলো। বিকাশ আর কিছুতেই উঠতে চাইলো না দেখে আমাদের আর ঝান্ডির গ্রামটায় যাওয়া হলো না।

দুর থেকে দেখলাম শুধু তবু যা দেখলাম এতো মর্তো নয় এ যেন স্বর্গ।

4

Latest posts by উদয় শঙ্কর সরকার (see all)